বিরল রোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃ’ত্যু

করো’নার মহামা’রির মধ্যেই দেশে দেখা দিল ‘স্টিভেন জনসন সিনড্রোম’ নামক বিরল এক রোগ। এতে আ’ক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে মৃ’ত্যুবরণ করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহদী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন। তিনি মাহদীর মৃ’ত্যুতে শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আবদুল্লাহ আল মাহদীর বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজারে।

আবদুল্লাহ আল মাহদীর বন্ধু সলিম স্বজনদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, কিছুদিন ধরে মাহদীর হালকা ঠাণ্ডা, জ্বর, চোখ লাল আর শরীরে ফোকসা পড়া শুরু হয়েছিল। ডাক্তার দেখানোর পরে পক্স হিসেবে আইডেন্টিফাই করে। সেভাবেই চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু পরের দিন থেকে জ্বর বাড়া শুরু করে, শরীরে ফোসকার পরিমাণ বেড়ে যায়।

১০৩-১০৪ ডিগ্রি জ্বর থাকার কারণে জামালপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ই’মা’র্জেন্সি ডাক্তাররাও পক্স হিসেবেই আইডেনটিফাই করেছে। পরে সেই অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট দিয়ে রিলিজ দিয়েছিল। রাতে আবার সেই ১০৪-১০৫ ডিগ্রি জ্বর। ডাক্তারের সাথে আলাপ করে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকায় অনেক হাসপাতাল ঘোরাঘুরির পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফ্রেন্ডশিপ স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

তখন ডাক্তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে বলেন, এই রোগ স্টিভেন জনসন সিনড্রোম। খুব বেশি রেয়ার একটা রোগ। জিনগত সমস্যার কারণে মাঝে মধ্যে এ রোগ হয়। আর লক্ষণ অনেকটাই পক্সের মতো তাই সহ’জে আইডেন্টিফাই করা যায় না।

স্টিভেন জনসন সিনড্রোম মূলত তীব্র প্রতিক্রিয়া সংবলিত একটি বিরল রোগ, যাতে সাধারণত এক মিলিয়নে ২-৭ জন ব্যক্তি আ’ক্রান্ত হন। এতে ত্বক ও মিউকাস ঝিল্লি আ’ক্রান্ত হয়। দেহের চামড়া, ঠোঁট, মুখ গহ্বর, কণ্ঠ, অন্ত্র, পায়ু, মূত্রনালি, চোখ ইত্যাদি সবকিছুই এ রোগে আ’ক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া ফোসকা পড়ে যায়। জীবাণু সংক্রমণও হতে পারে।